নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): বকরিদ উৎসবের আগে দিল্লি সরকারের জারি করা নির্দেশিকাকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হল বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি অভিযোগ করেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজেপি “সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ” ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার নির্দেশিকায় জানিয়েছে, নিষিদ্ধ পশু কোরবানি এবং জনস্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, কোরবানির ক্ষেত্রে নিয়ম এবং আইন আগেই বিদ্যমান।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে এখন নতুন করে এসব বলার কী প্রয়োজন? পরিবেশ নষ্ট করা, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং বিতর্ক তৈরি করাই উদ্দেশ্য। প্রতিটি রাজ্যেই এই আইন রয়েছে। আর দিল্লিতে এমনিতেই কোন উট বা গরুর কোরবানি হয়?”
খেরা আরও অভিযোগ করেন, প্রকৃত সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ধরনের বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
তাঁর দাবি, “এটাই বিজেপির কৌশল, যা প্রতি ঈদের সময় দেখা যায়।”
অন্য কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, কোনও ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ পশুর কোরবানি হয় না। তাঁর কথায়, “দিল্লিতে বিশুদ্ধ বাতাস দিতে পারেনি বিজেপি, যমুনা পরিষ্কার করতে পারেনি, তাই এখন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মন্তব্য করছে।”
তবে নিষিদ্ধ পশু কোরবানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পক্ষে মত জানিয়েও তিনি বলেন, “কিন্তু এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজন কী?”
অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি-র মুখপাত্র অশুতোষ বর্মা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নির্দেশিকা জারির আগে সব ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করার প্রস্তাব দেন।
তাঁর বক্তব্য, “একতরফা নির্দেশিকা সমস্যা তৈরি করে। বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান খোঁজা উচিত, সংঘাত নয়।”
এদিকে, শিয়া মারকাজি চাঁদ কমিটির সভাপতি সৈয়দ সাইফ আব্বাস নাকভি দিল্লি সরকারের নির্দেশিকাকে সমর্থন করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রতি বছরই আমরা আবেদন করি যে দেশের আইন ও সংবিধান মেনে চলতে হবে। যেসব পশুর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলিকে কোনওভাবেই কোরবানি করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “নিষিদ্ধ পশুর কোরবানি না করার এই অবস্থানকে আমি সমর্থন করি।”
উল্লেখ্য, এই নির্দেশিকা জারি করেছে রেখা গুপ্তা নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার।



















