নয়াদিল্লি, ২১ মে (আইএএনএস): ভারত ও আমেরিকা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অবকাঠামো, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম-সহ একাধিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স-এর বার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে মার্কিন শিল্পমহলের প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার খাতে বড় বিনিয়োগ, যেখানে অ্যামাজন-এর মতো সংস্থাগুলির নাম উল্লেখযোগ্য।
গয়াল বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় সংস্থাগুলির জন্য ভারত একটি নির্ভরযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে। একইসঙ্গে ভারতের পরিসর, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বাজারের সুযোগ বিশ্বে অনন্য।
তিনি বলেন, “আমেরিকা একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার খুঁজছে এবং ভারত ধারাবাহিকভাবে মেধাস্বত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে উচ্চমানের কাজ করে চলেছে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৪০ কোটির আকাঙ্ক্ষী ভারতীয় জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান আয় এবং বিস্তৃত মধ্যবিত্ত শ্রেণি মার্কিন উদ্ভাবনের জন্য বড় বাজার তৈরি করছে।
ভারত ও আমেরিকার অর্থনীতি পরস্পরের পরিপূরক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা কম হওয়ায় এই অংশীদারিত্ব আরও মজবুত হয়েছে।
তিনি বলেন, “পরিপূরক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থা একসঙ্গে মিললে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।”
বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) ভূমিকাও তুলে ধরেন গয়াল। তিনি জানান, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এমএসএমই মন্ত্রক এবং শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ‘এক্সপোর্ট প্রোমোশন মিশন’-এর মাধ্যমে এমএসএমই সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র পেতে সাহায্য করা হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
মন্ত্রী জানান, রপ্তানি পরিদর্শন পরিষদ, ভারতীয় মান ব্যুরো এবং ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) যৌথভাবে দেশের মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তুলতে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংকটের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ করা হয়েছে।
পীযূষ গয়ালের দাবি, আগামী অন্তত ২৫ বছর ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল অর্থনীতি হিসেবে থাকবে।
বর্তমানে ভারতে ২,১১৭টি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার রয়েছে, যেখানে সরাসরি প্রায় ২৩.৫ লক্ষ মানুষ কর্মরত এবং প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।



















