নয়াদিল্লি, ২১ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফরকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিজেপি। দলের দাবি, এই পাঁচ-দেশ সফরের মাধ্যমে কৌশলগত, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জাতীয় স্বার্থকে শক্তিশালী করবে।
বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের সহ-প্রভারি অমিত মালব্য তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন আর শুধুমাত্র একটি বৃহৎ বাজার হিসেবে বিবেচিত হয় না, বরং ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় একটি নির্ভরযোগ্য, প্রভাবশালী ও অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে যখন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সরবরাহ শৃঙ্খল সংকট এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন এই সফর ভারতের বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল অংশীদার হিসেবে অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মালব্য জানান, ইউএই সফরে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার নিয়ে সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি ভারতের কৌশলগত তেল সংরক্ষণে ইউএই-এর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।
ইউরোপ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, চিপ উৎপাদন এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
সুইডেনকে ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ৬জি টেলিকম গবেষণা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে উন্নত ইউরোপীয় প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের সংযুক্তি আরও বাড়ানোর জন্য একাধিক বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নরওয়েতে অনুষ্ঠিত ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলনে সবুজ জাহাজ চলাচল, আর্কটিক গবেষণা এবং ব্লু ইকোনমি-সহ ভবিষ্যতমুখী নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মালব্য।
ইতালি সফরে ভারত-ইতালি সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন, মহাকাশ প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মোদি ইউরোপ ও নর্ডিক অঞ্চলের শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করে ভারতকে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং নির্ভরযোগ্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছেন বলে বিজেপির দাবি।
বিজেপির মতে, এই সফরের মূল বার্তা হলো— বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকল্প ব্যবস্থায় ভারত এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


















