রোম, ২০ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বুধবার বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা ভারত-ইতালি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের নবউদ্যম, ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে গত বছরে অনুষ্ঠিত তিনটি বিজনেস ফোরামের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শক্তি রূপান্তর, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের নির্বাচিত ভারতীয় ও ইতালীয় সিইওদের সঙ্গে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে উদ্ভূত সুযোগগুলিকে কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছেন এবং এর দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতা। ইতালিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং ইসরো-এর চলমান সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার ওপর জোর দেন দুই নেতা। ভারতের দক্ষ মানবসম্পদ এবং ইতালির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ বাস্তব প্রকল্পের মাধ্যমে সংযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের মধ্যে গুজরাটের লোথালে জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্স উন্নয়নে সহযোগিতা এবং ভারত থেকে নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।
ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করে দুই নেতা ছাত্র, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের চলাচল আরও সহজ করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি ২০২৭ সালকে “ভারত-ইতালি সংস্কৃতি ও পর্যটন বর্ষ” হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতালির সরকার ও জনগণের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। দুই নেতা প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানান, যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা পণ্যের যৌথ নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদনে শিল্প সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।


















