বিশালগড়, ২০ মে : বিশালগড়ে দীর্ঘদিন ধরেই নাল ও কৃষিজমি অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগ উঠছে। পুর এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই চলছে জমি ভরাটের কাজ। কোথাও প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে, আবার কোথাও প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। বিশেষ করে বিশালগড় পুর এলাকার একাধিক নাল ও কৃষিজমি ইতিমধ্যেই ভরাট হয়ে গেছে বলে দাবি উঠেছে।
এরই মধ্যে বিশালগড় মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি দেওয়াল ভেঙে অবৈধভাবে জমি ভরাটের ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে ওই এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের জমি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ, দুই বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সরকারি দেওয়ালটি প্রশাসন আর সংস্কার করেনি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংলগ্ন নাল ও কৃষিজমি ভরাট করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বুলডোজার ব্যবহার করে সরকারি ওয়াল ভেঙে ফেলা হয়। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে এই কাজ চললেও প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসেনি। সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে মহকুমা প্রশাসন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার একাধিক ব্যক্তি ইতিমধ্যেই জমি ভরাট করেছেন। যদিও কারা বৈধভাবে এবং কারা অবৈধভাবে এই কাজ করেছেন, তা নিয়ে প্রশাসনিকভাবে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ম না মেনেই জমি ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বুধবার মহকুমা শাসক বিংকি সাহার নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মহকুমা শাসক জানান, সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজ বেআইনি এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ঝড়ে বিশালগড়ের দুর্গানগর এলাকায় বিশাল গাছ ভেঙে পড়লেও স্থানীয়রা প্রশাসনের তৎপরতা পাননি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে মোটরস্ট্যান্ডের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


















