শ্রীনগর, ২১ মে (আইএএনএস): পিতা প্রয়াত আব্দুল গনি লোনের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে পিপলস কনফারেন্স (পিসি)-এর চেয়ারম্যান সাজ্জাদ গনি লোনকে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে দলটি একে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করেছে।
পিপলস কনফারেন্সের এক মুখপাত্র জানান, দলের প্রধানকে গৃহবন্দি করে রাখা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২১ মে শ্রীনগরের ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন আব্দুল গনি লোন। সেদিন তিনি প্রবীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও প্রধান ধর্মগুরু মিরওয়াইজ মাওলানা মোহাম্মদ ফারুককে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন।
মাওলানা মোহাম্মদ ফারুকও ১৯৯০ সালের ২১ মে শ্রীনগরের নিগিন এলাকার বাসভবনে জঙ্গিদের হাতে নিহত হন।
আব্দুল গনি লোন ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। পরে ১৯৭৮ সালে তিনি ‘কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ দাবিতে পিপলস কনফারেন্স নামে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গঠন করেন।
অন্যদিকে, মিরওয়াইজ মাওলানা মোহাম্মদ ফারুক মাত্র ১৯ বছর বয়সে হাজরতবল দরগা থেকে পবিত্র নিদর্শন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের মাধ্যমে নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠে আসেন। পরবর্তীতে তিনি অল জম্মু ও কাশ্মীর আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (এসিসি)-র প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এবং চেয়ারম্যান হন।
২০১০ সালে মিরওয়াইজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হিজবুল মুজাহিদিন-এর এক জঙ্গিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ২০২৩ সালে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধৃতদের মধ্যে একজন সরাসরি মিরওয়াইজের শয়নকক্ষে ঢুকে গুলি চালিয়েছিল।
মাওলানা মোহাম্মদ ফারুকের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মিরওয়াইজ উমর ফারুক প্রধান ধর্মগুরু ও আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে আব্দুল গনি লোনের উত্তরসূরি হন তাঁর ছেলে সাজাদ গনি লোন।
বর্তমানে সাজ্জাদ গনি লোন তাঁর দলের চেয়ারম্যান এবং উত্তর কাশ্মীরের হান্দওয়ারা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
______


















