কলকাতা, ২১ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পুনর্নির্বাচন শুরু হয়েছে। পুরো কেন্দ্রজুড়ে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে, যা একটি একক বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ফলতার পুনর্নির্বাচনে বিজেপির জয় এখন অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে। বিজেপি জিতলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দলের আসন সংখ্যা বেড়ে ২০৮-এ পৌঁছতে পারে।
গত সপ্তাহে জাহাঙ্গির খান ফলতার জন্য নতুন ও নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত উন্নয়ন প্যাকেজের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, খানের এই ঘোষণার পরও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবেই পুনর্নির্বাচনে থাকবেন এবং ইভিএম-এ তাঁর নামও থাকবে।
সিইও দফতরের এক সূত্র জানায়, “ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯ এপ্রিল একবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২১ মে শুধুমাত্র পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। তাই প্রার্থীদের তালিকাসহ অন্য কোনও বিষয় পরিবর্তন হচ্ছে না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফলতা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোটের হার আগের নির্বাচনের তুলনায় বাড়ে, একই থাকে নাকি কমে— সেটাও দেখার বিষয় হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোট চলাকালীন একাধিক নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, বেশ কয়েকটি বুথে বিজেপি প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকের সামনে থাকা ইভিএম বোতাম সাদা টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করেন।
তদন্তের ভিত্তিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।


















