আগরতলা, ১৬ মে : বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত টিআরইএসপি প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর ত্রিপুরার লালজুরি আর.ডি. ব্লকে গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গঠিত বিভিন্ন প্রডিউসার গ্রুপ বর্তমানে সফলভাবে মাছ চাষ করে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে।
লালজুরি ব্লকের “মা গঙ্গা ফিশারি প্রডিউসার গ্রুপ” ১৬ কানি জলাশয়ে পলিকালচার পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে মোট ১,০৮০ কেজি মাছ উৎপাদন করেছে। এই উৎপাদন থেকে মোট আয় হয়েছে ৩ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। সমস্ত ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত খরচ মিটিয়ে গ্রুপটির নিট লাভ দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৪৪ টাকা।
অন্যদিকে, “প্রভাত প্রডিউসার গ্রুপ” ১২.৫ কানি এলাকায় মাছ চাষ করে ৯০০ কেজি মাছ উৎপাদন করেছে। এই গ্রুপের মোট আয় হয়েছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের পর নিট লাভ হয়েছে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা।
শনিবার উত্তর ত্রিপুরার এডিএম, লালজুরি ব্লকের বিডিও, মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকরা এবং টিআরইএসপি-এর জেলা ও ব্লক স্তরের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় মাঠ পরিদর্শন করেন। তারা মাছ চাষিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রকল্পের অগ্রগতি, সাফল্য এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন।
এই সাফল্যের পেছনে ডিস্ট্রিক্ট প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, টিআরইএসপি-এর ডিস্ট্রিক্ট ফিশারি ম্যানেজার শ্রীমতি সংহিতা পালের সক্রিয় সমন্বয় এবং ব্লক প্রজেক্ট ম্যানেজারের নিয়মিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিডিওদের দৃঢ় নেতৃত্ব, কার্যকর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের ফলে সময়মতো ঋণের সঠিক ব্যবহার, ব্যয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ উত্তর ত্রিপুরায় টেকসই মাছ চাষ ও গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে।



















