ধর্মনগর, ১৬ মে : ত্রিপুরার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত আসাম-আগরতলা ৮ নং জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ বর্তমানে কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পেঁচারতল এলাকার নবীনছড়া, কুমারঘাটের কাচারিচড়া এবং সিদংচড়া এলাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার জলে সেই গর্তগুলো ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার রাস্তার একাংশ ধসে পড়েছে। পিচ উঠে বেরিয়ে এসেছে পাথর। ফলে বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে যান চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রাস্তার এই দুরবস্থা চললেও প্রশাসনের তরফে স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুল পড়ুয়া, রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, অফিসযাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। গত সপ্তাহেই একটি লরি উল্টে যায়। বাইক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হচ্ছেন।
অন্য এক গাড়িচালকের অভিযোগ, “রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে তেলের খরচও। এই অবস্থায় চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ৮ নং জাতীয় সড়কই ত্রিপুরার সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, নির্মাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলও এই পথেই রাজ্যে আসে। ফলে রাস্তার বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও বাজারদরেও।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এনএইচ-২০৮ পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বর্ষার কারণে আপাতত সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্ষা শেষ হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, আর কত দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়বে? দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সরব হয়ে উঠছেন নবীনছড়া ও আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা।



















