নয়াদিল্লি, ১৪ মে (আইএএনএস) : দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র দাখিল করা চার্জশিটের শুনানি হবে আগামী ৪ জুন। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট-এ এই মামলার চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
প্রায় ৭,৫০০ পাতার এই বিশাল চার্জশিটে মোট ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বিস্ফোরক পদার্থ আইন, অস্ত্র আইন এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়িবাহিত ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস বা ভিবিআইইডি বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। ঘটনায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
এনআইএ-র দাবি, চার্জশিটে নাম থাকা সমস্ত অভিযুক্তই জঙ্গি সংগঠন আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই সংগঠনকে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা-এর সহযোগী সংগঠন বলে মনে করা হয়।
চার্জশিটে মূল চক্রী হিসেবে নাম রয়েছে ডা. উমর উন নবী-র। পুলওয়ামার বাসিন্দা উমের উন নবি হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনআইএ। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং দিল্লি-এনসিআর জুড়ে তদন্ত চালানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ৫৮৮ জন সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হয়েছে, খতিয়ে দেখা হয়েছে ৩৯৫টিরও বেশি নথি এবং ২০০-র বেশি বাজেয়াপ্ত সামগ্রী ও আলামত।
এর আগে মার্চ মাসে পাটিয়ালা হাউস কোর্ট তদন্ত সম্পূর্ণ করার জন্য এনআইএ-কে অতিরিক্ত ৪৫ দিন সময় দিয়েছিল। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















