কলকাতা, ১২ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন অগ্নি নির্বাপন দফতরের মন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত বোসকে মঙ্গলবার ২১ মে পর্যন্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল কলকাতার বিশেষ পিএমএলএ আদালত।
সোমবার রাতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি আধিকারিকরা। উত্তর কলকাতার সল্টলেক এলাকায় ইডির দফতরে প্রায় ১০ ঘণ্টার বেশি জেরা করা হয় তাঁকে। অভিযোগ, রাজ্যের পূর্ববর্তী শাসনকালে বহু কোটি টাকার পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে আদালতে পেশ করেন। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক তাঁকে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে সজিত বসুর পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন জানানো হয়। তাঁর আইনজীবীর দাবি, যে নথির ভিত্তিতে ইডি তাঁকে গ্রেফতার করেছে, সেগুলি ২০২২-২৩ সালেই তদন্তকারীদের কাছে ছিল। তাই ২০২৬ সালে নতুন করে গ্রেফতারি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, ইডির পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে জামিন দিলে প্রমাণ নষ্ট হওয়া বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ইডির যুক্তিকে গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, সজিত বসু উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এইবার তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল চাকরি দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন এক তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অয়ন শীল-এর বাড়িতে তল্লাশির সময় পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রথম সামনে আসে।
পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলায় পৃথক তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এরপর ইডি এবং সিবিআইয়ের যৌথ তদন্তে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসে, যার মধ্যে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও শাসক দলের নেতারা রয়েছেন।



















