নয়াদিল্লি, ১২ মে (আইএএনএস) : ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভর করবে ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে প্রযুক্তি গ্রহণ, অভিযোজন, সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলা যায় তার উপর। মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করলেন দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন।
রাজধানীতে আয়োজিত কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি-এর বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু উন্নত অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে নেই, বরং উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সামনের সারিতেই রয়েছে।
নাগেশ্বরনের বক্তব্য, “ভারতের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকেও সেই পথেই এগোতে হবে। আর তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শক্তিশালী বাণিজ্যিক দক্ষতা তৈরি করা।”
তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের নিজেদের দক্ষতার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে এবং কর্মীদেরও সেই পথে উৎসাহিত করতে হবে। হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ, ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনার মতো পরিষেবা ক্ষেত্রেও দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, এই দক্ষতাই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পথ তৈরি করবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে আন্তর্জাতিক ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইআই-এর প্রাক্তন সভাপতি ও সিআইআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স অন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড-এর চেয়ারম্যান আর দীনেশ। তিনি বলেন, “ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক গভীরতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থানের কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এমএসএমই-গুলিকে সক্ষম করে তুলতে হবে।”
এদিকে সিআইআই-এর বর্তমান সভাপতি রাজীব মেমানি বলেন, ভারতের সামনে মূল প্রশ্ন শুধু আমদানি নয়, বরং উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে গড়ে তোলা যায়।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জরুরি ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প চালুর অনুমোদন দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিতেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
।।।।।



















