নয়াদিল্লি, ১২ মে (আইএএনএস): তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগম (টিভিকে)-এর বিধায়ক আর সিনিবাস সেতুপতির বিরুদ্ধে মাদ্রাজ হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের বৈধতা নিয়ে বুধবার শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট। ওই নির্দেশে তাঁকে তামিলনাড়ু বিধানসভায় কোনও আস্থা ভোটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেতুপতির দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) মঙ্গলবার নথিভুক্ত হয়েছে এবং বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চে ১৩ মে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবারই প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সামনে জরুরি শুনানির আবেদন জানান। এরপরই শীর্ষ আদালত বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে।
সেতুপতি তাঁর আবেদনে মাদ্রাজ হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি তামিলনাড়ু বিধানসভায় কোনও আস্থা ভোট, অনাস্থা প্রস্তাব, ট্রাস্ট ভোট বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরীক্ষার মতো ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারবেন না।
বিচারপতি এল. ভিক্টোরিয়া গৌরি ও বিচারপতি এন. সেন্টিলকুমারের বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছিল। তাঁরা ডিএমকে নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী কে আর পেরিয়াকারুপ্পন-এর দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি করছিলেন। পেরিয়াকারুপ্পন শিবগঙ্গা জেলার তিরুপত্তুর বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র এক ভোটে পরাজিত হন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সেতুপতি পান ৮৩,৩৬৫ ভোট এবং পেরিয়াকারুপ্পন পান ৮৩,৩৬৪ ভোট।
পেরিয়াকারুপ্পনের অভিযোগ, গণনার সময় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, শিবগঙ্গা জেলার ১৮৫ নম্বর তিরুপত্তুর কেন্দ্রের একটি পোস্টাল ব্যালট ভুলবশত ভেলোরের কাছে অবস্থিত ৫০ নম্বর তিরুপত্তুর কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং সেখানে সেটি বাতিল করা হয়, সঠিক কেন্দ্রে ফেরত পাঠানো হয়নি।
মাদ্রাজ হাই কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, এই মামলায় “একটি অদ্ভুত সাংবিধানিক অসঙ্গতি” সামনে এসেছে, যেখানে একটি বৈধ পোস্টাল ব্যালট একই নামের অন্য কেন্দ্রে চলে গিয়ে বাতিল হয়েছে। আদালত আরও জানায়, এটি শুধুমাত্র ভোট পুনর্গণনা বা ভোট বাতিলের সাধারণ বিতর্ক নয়, বরং “নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার” প্রশ্ন।
হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, যে নির্বাচনের ফল এক ভোটে নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে প্রতিটি ভোট শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, ফল নির্ধারণকারীও হতে পারে। ইভিএম ভোটের হিসাবে ১৮ ভোটের অসঙ্গতি এবং বিতর্কিত পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টিও আদালত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। আদালতের মতে, জয়ের ব্যবধান এত কম হওয়ায় এই অভিযোগগুলি প্রাথমিক পর্যায়েই খারিজ করা যায় না।
মাদ্রাজ হাই কোর্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে গণনাপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণের নির্দেশও দেয়। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের নথি, বাতিল হওয়া পোস্টাল ব্যালটের খাম, ইভিএম ভোটের হিসাব, গণনার ভিডিও ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই অন্তর্বর্তী নির্দেশকে সেতুপতির নির্বাচন বাতিল হিসেবে গণ্য করা যাবে না এবং আবেদনকারীকে নির্বাচিত ঘোষণার অধিকারও এটি দিচ্ছে না। শুনানির সময় নির্বাচন কমিশন রিট পিটিশনের বিরোধিতা করে জানায়, ফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর এই ধরনের বিরোধ শুধুমাত্র গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ অনুযায়ী নির্বাচনী মামলার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী জি. রাজাগোপালন যুক্তি দেন, ফল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় এবং ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের হাত বাঁধা পড়ে যায়। তবে মাদ্রাজ হাই কোর্ট মন্তব্য করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা ও সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে এই মামলাটি “ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন বাস্তব পরিস্থিতি”-র মধ্যে পড়ে।



















