নয়াদিল্লি, ১২ মে (আইএএনএস): ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করার পর মঙ্গলবার দিল্লির একাধিক স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানায়।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের ফলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর এমন ঘটনার জেরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীরা জানান, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। অনেকেই বলেন, ২০২৪ সালের পর আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় পরীক্ষাব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, ছাত্র সংগঠনগুলিও এনটিএ এবং কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) দাবি করেছে, ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলির ধারাবাহিক আন্দোলনের চাপে সরকার পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। তবে শুধুমাত্র পরীক্ষা বাতিল করলেই ন্যায়বিচার হবে না বলেও সংগঠনের দাবি।
এনএসইউআই-এর এক সদস্য বলেন, যতক্ষণ না প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এনটিএ-কে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং গোটা যোগসাজশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ ছাত্রদের আন্দোলন চলবে।
সংগঠনটি এনটিএ-র মতো প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং স্বাধীন তদন্তের দাবিও তোলে।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনএসইউআই সভাপতি বিনোদ জাখর বলেন, সরকার এখনও প্রশ্নফাঁস নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি। পরীক্ষার আগেই প্রায় ১২০টি প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন। সরকারের জবাবদিহি কোথায়? আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই। এনটিএ-ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে অক্ষম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনা বৃহৎ আকারের অনিয়মের প্রমাণ এবং এখনও পর্যন্ত কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে নীরবতা বজায় রয়েছে।
এক বিক্ষোভকারী ছাত্র বলেন, আমাদের পরিবার নীট কোচিংয়ের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে। বাড়ি ছেড়ে মাসের পর মাস পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তারপর পরীক্ষায় বসে জানতে হচ্ছে প্রশ্নফাঁস হয়েছে। বারবার এই ক্ষতি কেন হবে?
অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-ও ঘটনার তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁস ও পদ্ধতিগত ত্রুটির খবর দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এবিভিপি জানিয়েছে, প্রবেশিকা পরীক্ষার পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করা চলবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস শুধু পরীক্ষাব্যবস্থার উপর আঘাত নয়, বরং লক্ষ লক্ষ পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে অন্যায়।
সংগঠনটি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে উন্নত প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা জোরদারেরও দাবি উঠেছে।
এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিরেন্দ্র সোলাঙ্কি বলেন, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে নীটের মতো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এই ধরনের অনিয়ম তাদের মনোবল ও ভবিষ্যতের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।



















