মালাপ্পুরম (কেরল), ১২ মে (আইএএনএস): কেরলে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) জোরালো জয়ের নয় দিন পরেও মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে না পারায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটে অস্বস্তি বাড়ছে। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) এবার প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছে।
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার সকালে পানাক্কাডে জরুরি নেতৃত্ব বৈঠক ডেকেছে আইইউএমএল। মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার জেরে পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েই এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
জোট সূত্রে খবর, ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় ইউডিএফ ১০২টি আসনে জয় পাওয়ার পরও কংগ্রেস হাইকমান্ডের ধীরগতির সিদ্ধান্তে মুসলিম লীগ নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ। দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, এই বিলম্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আইইউএমএল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী এমন কাউকে হওয়া উচিত যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও রমেশ চেন্নিথলার মতো ঐকমত্যের প্রার্থীকে সমর্থন করতে আপত্তি নেই বলেই জানা গিয়েছে, তবে কে. সি. ভেনুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়ে দলের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।
বুধবারের পানাক্কাড বৈঠকে মূলত আলোচনা হবে, কংগ্রেস যদি লীগের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে জোটে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় শরিক দলগুলির সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শ করা হয়নি বলেও লীগের নেতাদের অভিযোগ।
এদিকে, আইইউএমএলের একাধিক বিধায়ক ও প্রবীণ নেতা প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। দলের নেতাদের দাবি, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, মানুষ কি এই পরিস্থিতির জন্য ভোট দিয়েছিল? যা জনমনে বাড়তে থাকা অস্থিরতারই প্রতিফলন। সরকার গঠনে বিলম্বের কারণে প্রশাসনিক কাজেও প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে লীগ। দৈনন্দিন প্রশাসনিক একাধিক বিষয় আটকে রয়েছে, এমনকি এসএসএলসি পরীক্ষার ফল প্রকাশও কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছাড়াই করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কেরলের নেতৃত্ব প্রশ্নে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে। তবে তার আগেই জোটের অভ্যন্তরে চাপা টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।



















