জয়পুর, ১২ মে (আইএএনএস): ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (নীট) পরীক্ষা বাতিলের পর মঙ্গলবার প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্ত ও পরিচালনা নিয়ে রাজস্থান সরকার এবং স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের (এসওজি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট।
গেহলট অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও গ্রেফতারের ঘটনা সামনে আসার পরও এসওজি একটি এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করেনি। তিনি বলেন, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ একটি এফআইআরও নথিভুক্ত করেনি। মানুষ প্রশ্ন তুলছে, কেন আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হল না এবং কেন কোনও রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি।
তাঁর দাবি, গোটা বিষয়টি আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা উচিত ছিল। গেহলট বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এসওজি বিষয়টিকে পুরোপুরি জনসমক্ষে আসতে দেয়নি। এফআইআর ছাড়া কীভাবে তদন্ত এগোতে পারে? কেন তারা মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকল?
একইসঙ্গে বারবার পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্র সরকারকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর মতে, নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই ধরনের ঘটনা রোধে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, মোদী সরকারের উচিত প্রশ্নফাঁস রোধে গুরুত্ব দেওয়া। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী Dharmendra Pradhan-এর খতিয়ে দেখা উচিত কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে।
গেহলটের মতে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকেই বিষয়টির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এনটিএ এখন পরীক্ষা বাতিল করেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষের উচিত গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা।
কোচিং সেন্টারগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কোচিং সেন্টার রয়েছে এবং এই ধরনের ঘটনায় প্রায়ই তাদের নাম সামনে আসে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো সত্য সামনে আসবে না। গেহলট আরও দাবি করেন, রাজস্থান সরকারের কাছে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল এবং সেই সূত্রেই এসওজি গ্রেফতারি শুরু করেছিল।
তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের কাছে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এরপর এসওজি কয়েকজনকে গ্রেফতার করা শুরু করে। অভিযোগ, প্রশ্নপত্র রাজ্যের মধ্যেই ছাপা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের উচিত ছিল আগেভাগে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেওয়া।
যদি রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে বিষয়টি জানিয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে গোটা প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যেত, বলেন তিনি। এফআইআর না হওয়ার বিষয়েও ফের প্রশ্ন তোলেন গেহলট। তাঁর প্রশ্ন, কে এসওজি-কে এফআইআর না করার নির্দেশ দিয়েছিল? এর কারণ স্পষ্ট করা উচিত।
তিনি জানান, ৩ মে পরীক্ষা হওয়ার পরের দিন থেকেই ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ জানাতে শুরু করেছিল। গেহলট বলেন, ছাত্রছাত্রীরা ৪ মে থেকেই অভিযোগ জানাতে শুরু করে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাঁর দাবি, পরে ছাত্রছাত্রীরা এনটিএ-কে চিঠি দেয় এবং এনটিএ বিষয়টি ডিজিপিকে জানায়। এরপর মামলাটি এসওজির হাতে তুলে দেওয়া হলে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।



















