নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): উত্তর-পূর্ব ভারতকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার বলেন, ২০১৭ সালে ব্রিটিশ আমলের আইন পরিবর্তনের পর থেকে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে বাঁশ শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিজের মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১৩৩তম পর্বে তিনি বলেন, “উত্তর-পূর্ব আমাদের সকলের কাছে অষ্টলক্ষ্মীর মতো। এখানে অসীম প্রতিভা রয়েছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও সবার মন কাড়ে। ‘মন কি বাত’-এ আমরা প্রায়ই এই অঞ্চলের মানুষের সাফল্যের কথা বলেছি।”
বাঁশ শিল্পের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যা একসময় বোঝা বলে মনে করা হত, আজ সেটাই কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের মা-বোনেরা এর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। বাঁশের সংজ্ঞা পরিবর্তনের ফলে কত বড় পরিবর্তন এসেছে, তা দেখে আপনি অবাক হবেন।”
তিনি জানান, ব্রিটিশ আমলের আইনে বাঁশকে গাছ হিসেবে গণ্য করা হত, ফলে এর পরিবহণে কড়াকড়ি ছিল। “এর ফলে মানুষ বাঁশ-নির্ভর ব্যবসা থেকে সরে যেতে শুরু করেছিল। ২০১৭ সালে আইন পরিবর্তন করে বাঁশকে গাছের শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার ফল এখন সবার সামনে। আজ উত্তর-পূর্ব জুড়ে বাঁশ শিল্প বিকশিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ত্রিপুরার গোমতী জেলার বিজয় সূত্রধর ও দক্ষিণ ত্রিপুরার প্রদীপ চক্রবর্তীর কথা উল্লেখ করেন। নতুন আইনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে তাঁরা প্রযুক্তির সঙ্গে কাজকে যুক্ত করে আগের চেয়ে উন্নত মানের বাঁশজাত পণ্য তৈরি করছেন।
নাগাল্যান্ডের দিমাপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী বাঁশ-ভিত্তিক খাদ্যপণ্যে মূল্য সংযোজন করছে। ‘খোরোলো ক্রিয়েটিভ ক্রাফ্টস’ নামের একটি দল বাঁশের আসবাব ও হস্তশিল্প তৈরি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
মিজোরামের মামিত জেলায় বাঁশের টিস্যু কালচার ও পলিহাউস ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ হচ্ছে। পাশাপাশি সিকিমের গ্যাংটকের কাছে ‘লাগাস্টাল বাঁশ এন্টারপ্রাইজ টিম’ বাঁশ দিয়ে হস্তশিল্প, আগরবাতি, আসবাব ও ইন্টেরিয়র ডেকর সামগ্রী তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দিয়েছি। দেশের বাঁশ শিল্পে সাফল্যের তালিকা অনেক বড়। আমি সকলকে অনুরোধ করব, উত্তর-পূর্বের অন্তত একটি বাঁশজাত পণ্য কিনুন বা উপহার দিন। এতে যারা কঠোর পরিশ্রম করে এসব তৈরি করেন, তারা উৎসাহিত হবেন।”



















