নয়াদিল্লি, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে একটি রিল শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। শক্তিশালী পরিসংখ্যান। আরও শক্তিশালী আত্মবিশ্বাস।”
দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, “আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাতে চাই। ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। তবে দেশের মানুষের দৃঢ় সংকল্প ও প্রচেষ্টার জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাতে চাই। এটি আমাদের সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।”
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মোদি বলেন, “বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। সর্বত্র যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির খবর আসছে। বিশ্ব নানা সংকটে ঘেরা। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে আমরা কোনও ধরনের স্থিতিশীলতা দেখতে পাইনি।”
তা সত্ত্বেও ভারত উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দেশের মধ্যে হতাশা ছড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, “সর্বশেষ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া মিথ্যার প্রতিধ্বনি প্রকাশ্যে এনেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সমস্ত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দেশ ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমাদের এই গতি বজায় রাখতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।”
‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার পাশাপাশি ‘স্বদেশি’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ উদ্যোগকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় পণ্য ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এবং বিদেশে গিয়ে বিয়ের মতো খরচ কমানোর পরামর্শ দেন।
মোদি বলেন, “আপনি যদি কোনও বিদেশি দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে থামুন। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বন্ধ করা উচিত। আমাদের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া ’-র মন্ত্র অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনাও উচিত নয়।”
দেশীয় পণ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়লে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমরা যদি স্বদেশি পণ্যের ওপর নির্ভর করি, তাহলে আমি নিশ্চিত যে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় আমরা আমাদের যুবসমাজের হাতে ‘বিকশিত ভারত’ তুলে দিতে পারব।”
এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। তুলনায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৬ শতাংশ ও ৫.৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৫.২৯ শতাংশ এবং চিনের ৪.৩ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.১ শতাংশ। ইউরোপের অধিকাংশ বৃহৎ অর্থনীতিতে এই হার প্রায় ১ শতাংশ বা তারও কম ছিল।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন আয়স্তরে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি ৪.৫৮ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বিক্রি ৩৪.৩ শতাংশ বেশি এবং জুলাই মাসের হিসাবে এটি সর্বকালীন সর্বোচ্চ।


















