ঢাকা, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তত ২৫৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যাতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নথিভুক্ত ঘটনাগুলির মধ্যে ৪০টি হত্যাকাণ্ডে ৪৪ জনের মৃত্যু, নারীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ-সহ ৫টি সহিংসতার ঘটনা এবং অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ১০টি ঘটনা রয়েছে।
এছাড়া সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের ৪২টি ঘটনা, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৬২টি ঘটনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ১৫টি ঘটনা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৪৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৯টি গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনা, বাড়ি, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জোরপূর্বক দখলের ২১টি ঘটনা এবং অন্যান্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৬টি ঘটনাও ঘটেছে।
সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে হত্যা, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হুমকি, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে।
ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২,০৫৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বহু পরিবার জীবিকা হারিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাস ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থাহীনতা বেড়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ৮১ ফুট উচ্চতার ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণের প্রস্তাবদাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেফতারের সমালোচনা করে একে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাবন্দি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত বহু সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষকরা, নির্বিচারে চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আমলেও এ বিষয়ে কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংগঠনটির দাবি।
সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা সরকারের কাছে আট দফা দাবি পেশ করেছে।
–আইএএনএস



















