নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): এসি শ্রেণির যাত্রীদের জন্য আরও উন্নত ও পরিচ্ছন্ন লিনেন পরিষেবা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা-ভিত্তিক দাগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে ভারতীয় রেল। শুক্রবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সেন্ট্রাল রেলের পুনে বিভাগ এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলের জয়পুর ও যোধপুর বিভাগের লন্ড্রিগুলিতে এই পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ধোয়া লিনেনের মান নির্ধারণে এআই-চালিত ক্যামেরার মাধ্যমে দাগ শনাক্ত করা হচ্ছে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, প্রতিটি যাত্রায় এসি কোচের যাত্রীদের পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত লিনেন সরবরাহ করা ভারতীয় রেলের অগ্রাধিকার। প্রচলিত রেলওয়ে বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লিনেনের নির্দিষ্ট ব্যবহারকাল রয়েছে এবং ব্যবহার, অবস্থা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে অযোগ্য লিনেন প্রত্যাহার করে নতুন লিনেন সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, প্রতিটি বেডরোল প্যাকেটে দুটি বিছানার চাদর, একটি বালিশের কভার এবং একটি হাত মুছার তোয়ালে থাকে। একটি চাদর সিটে বিছানোর জন্য এবং অন্যটি কম্বলের নিচে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়, যাতে কম্বল সরাসরি যাত্রীর শরীরের সংস্পর্শে না আসে। এই অতিরিক্ত চাদরটি একবার ব্যবহারের পরই ধুয়ে ফেলা হয়।
যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলের পরিচালিত ট্রেন এবং কামাখ্যা-হাওড়া রুটে চলাচলকারী নতুন বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সব এসি যাত্রীকে কম্বলের কভার সরবরাহ করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সব যান্ত্রিক লন্ড্রিতে লিনেন পরিষ্কারের কার্যকারিতা যাচাই করতে ‘হোয়াইটোমিটার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া লন্ড্রির কাজকর্ম পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।
রেলমন্ত্রী জানান, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার করতে রেলস্টেশন, যাত্রীবাহী কোচ এবং অন্যান্য রেল প্রাঙ্গণে ধাপে ধাপে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত দেশের ৩,২১৫টি রেলস্টেশন এবং ১৩,৪০৯টি যাত্রীবাহী কোচে সিসিটিভি ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
সূত্র: আইএএনএস


















