গান্ধীনগর, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত গুজরাতে জোরকদমে চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান। রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৩৮,৬৫৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৫,৫৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ করছে।
গান্ধীনগরের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (এসইওসি) জানিয়েছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক বৃষ্টির জেরে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর মোট ৪৯টি দল মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া আহমেদাবাদ, নওসারি এবং ভালসাদ জেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছয়টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় দুটি করে সেনাদল উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিচ্ছে। ভাদোদরায় ভারতীয় বায়ুসেনা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে নওসারি, ভালসাদ এবং তাপি জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ভারতীয় কোস্ট গার্ড আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে।
বিলিমোরা ও গান্দেভির প্লাবিত এলাকায় কোস্ট গার্ডের দল নৌকার সাহায্যে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর ও মধ্য গুজরাতের একাধিক এলাকায় শুক্রবারও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এসইওসি জানিয়েছে, গত দু’ঘণ্টায় বানাসকাঁঠা জেলার দেওদর তালুকায় তিন ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া বানাসকাঁঠার ভাবর, আরাবল্লী জেলার ধানসুরা, আমরেলি জেলার লিলিয়া এবং পাটন জেলার সান্তলপুরে দুই ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিনও বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। ভালসাদ জেলার নানাপোন্ধা তালুকার পান্দোর গ্রামে এসডিআরএফ উদ্ধার অভিযান চালায়। নওসারি জেলার ভানসদা তালুকার ধারমপুরিতেও পৃথক উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
আহমেদাবাদ জেলার ঢোলকা তালুকার চালোদা গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বৃষ্টির জলে আটকে পড়া তিনজনকে স্থানীয় প্রশাসন ও এসডিআরএফ যৌথভাবে উদ্ধার করে। অন্যদিকে, আহমেদাবাদ জেলার সারভাট ও বাদারখা গ্রামের মাঝখানে জলবন্দি হয়ে পড়া একটি বাসের ২০ জন যাত্রীকে ট্র্যাক্টরের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
নওসারি জেলার গান্দেভি তালুকার মেঘর গ্রামেও ভারতীয় কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্লাবিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে, গুজরাতের ডিজিপি জ্ঞানেন্দ্র সিং মালিক শুক্রবার গান্ধীনগরের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার পরিদর্শন করে ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির পরিস্থিতি এবং চলমান ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আইএএনএস



















