নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): নীট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রী ও বিরোধী সাংসদদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া পদক্ষেপের প্রতিবাদে বুধবার কালো পোশাক পরে সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভে সামিল হলেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা।
একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন বিরোধী নেতাদের পুলিশ জোর করে সরিয়ে দেয়। তারই প্রতিবাদে বুধবার সংসদ চত্বরে জড়ো হয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি কেন্দ্র সরকার অসংবেদনশীল এবং উদাসীন মনোভাব নিয়েছে।
কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের সাংসদরা একজোট হয়ে পুলিশের ‘বর্বরতা’ এবং যন্তর-মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা করেন। ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধেও তাঁরা সরব হন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা কালো পোশাক পরে প্রতিবাদে অংশ নেন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী আরও বেশি মানুষকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নীট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। এরপর পুলিশ তাঁকে-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে জোর করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি অভিযোগ করেন, “যেভাবে বিরোধী দলনেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আহত হয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
কংগ্রেস সাংসদ কে. সুরেশ বলেন, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং অন্যান্য সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের বর্বর আচরণের প্রতিবাদেই আমরা কালো পোশাক পরে মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি।”
এদিকে, নীট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় সংসদের কার্যক্রমও অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের জেরে উভয় কক্ষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
























