কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ডেঙ্গুর আক্রান্তের সংখ্যা গোপন করা নয়, বরং রোগটি নির্মূল করাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শনিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে একটি ডেঙ্গু সচেতনতা মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রিপোর্টে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আসানসোল পুরনিগমের উদ্যোগে আয়োজিত এই সচেতনতা মিছিলটি রামসে ময়দান থেকে শুরু হয়ে মহিশীলার বাত্তলা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে আসানসোল পুরনিগমের কমিশনার দিলীপ মিশ্র, জেলা বনাধিকারিক এবং পুরনিগমের সাফাইকর্মীরা অংশ নেন।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য ডেঙ্গু নির্মূল করা। কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্ত পরীক্ষা করে রিপোর্টে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।” তিনি জানান, আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সেই সংখ্যা গোপন করার প্রশ্নই নেই। রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু থাকলে রিপোর্টে তা উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিরোধীরা ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার অভিযোগ তুলত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সময়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধায়ক হিসেবে অগ্নিমিত্রা পাল বিধানসভায় একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও পদক্ষেপের কথা জানিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, যে ওয়ার্ডগুলিতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়েছে, সেখানকার বাকি বাসিন্দাদেরও মশারি দেওয়া হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করা হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নির্মূল করতে হলে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বাড়ি বা তার আশপাশে কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না। কারও দু’দিনের বেশি জ্বর থাকলে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা জানান, রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে এবং এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।
























