পাটনা, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গঙ্গা-সহ একাধিক প্রধান নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শুক্রবার আরও অবনতি হল বিহারের বন্যা পরিস্থিতির। গঙ্গা, গণ্ডক, পুনপুন ও দরধা নদীর জল বাড়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জলসম্পদ দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার রাতের মধ্যেই পাটনার গান্ধী ঘাট এবং মোকামার হাতিদহে গঙ্গার জল সর্বোচ্চ বন্যাস্তর ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ভোজপুর, পাটনা, সারন, বৈশালী, নালন্দা, বেগুসরাই, লখিসরাই ও জেহানাবাদ জেলার নদীতীরবর্তী এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাটনায় দীঘায় গঙ্গার জল বিপদসীমার ১.১৭ মিটার ওপরে বইছে। গান্ধী ঘাটে জলস্তর বিপদসীমার ১.৬৭ মিটার এবং হাতিদহে ১.৩২ মিটার ওপরে রয়েছে। শ্রীপালপুরে পুনপুন নদীর জল বিপদসীমার ২.২৯ মিটার ওপরে এবং কোলহাচকে দরধা নদীর জল ৩.০৭ মিটার ওপরে রয়েছে।
ভাগলপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার জলস্তর ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এর ফলে নাথনগর, নওগাছিয়া ও পীরপৈন্তির দিয়ারা এলাকায় ফের বন্যার জল ঢুকেছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, দাঁড়িয়ে থাকা ফসল এবং পশুখাদ্য জলের তলায় চলে গিয়েছে।
খাগাড়িয়া জেলার পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে গঙ্গার জল বিপদসীমার ১.০১ মিটার ওপরে বইছে। পাশাপাশি কোসি, বাগমতী ও বুড়ি গণ্ডক নদীর জলও বিপদসীমার অনেক ওপরে থাকায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাঘোপুরে একটি রেললাইনের কাছে ব্যাপক ভাঙন ও মাটি বসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। নদীর পার্শ্ববর্তী বাঁধ প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় গঙ্গার মূল স্রোত রেললাইনের অত্যন্ত কাছে চলে এসেছে। এর ফলে রেললাইনের আশপাশের প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
মুঙ্গেরে গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার জলস্তর ৩৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। মধেপুরা জেলার আলমনগর ও চৌসা ব্লকে বন্যায় প্রায় এক লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৫টি নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।
বাঁকা জেলায় বারসান্ডা গ্রামের কাছে নির্মীয়মাণ একটি সেতুর জন্য তৈরি ডাইভারশন রোড মিরচনি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে। সাহারসা জেলারও একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার জেরে একাধিক জেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। পশ্চিম চম্পারণে যোগাপট্টি-ছোটা চৌমুখা-সিসওয়া মঙ্গলপুর সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ। ওই সড়কের উপর দিয়ে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় জল বইছে।
সমস্তিপুরে প্রায় দুই ডজন গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক গ্রামীণ রাস্তা জলের তলায় চলে গিয়েছে। পাটনার কচ্চি দরগাহ-বিদুপুর ছয় লেনের সেতুতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
বৈশালীর রাঘোপুর ব্লকের সবকটি পঞ্চায়েতই বন্যার কবলে পড়েছে। প্রায় ২০টি পঞ্চায়েতের সঙ্গে মূল সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ত্রাণ পৌঁছনো এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।



















