কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কথিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের গঠিত বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মালিকানাধীন দুটি সংস্থার দফতরে তল্লাশি চালায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে অবস্থিত হাকিম পলিমেকার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং হাকিম কেমিক্যালস-এর অফিসে পৌঁছয় তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কলকাতা পুলিশের উপস্থিতিতে এই তল্লাশি চালানো হয়।
দুটি সংস্থাই চারবারের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের মালিকানাধীন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘ববি’ নামে পরিচিত। সংস্থাগুলির ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, মালিকানার সঙ্গে হাকিম যুক্ত রয়েছেন।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, কথিত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ এই দুই সংস্থার কোনও একটিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীরা সেখানে যান। পাশাপাশি সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে কথিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী দল যখন দুই সংস্থার অফিসে পৌঁছয়, তখন ফিরহাদ হাকিম বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে সূত্রের খবর।
চলতি বছরের গোড়ায় অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা চতুর্থবার জয়ী হন হাকিম। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয় হলেও তিনি বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংকে ৫৬ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে আসনটি ধরে রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কথিত বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের ঘোষণা করেন।
কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। একজন প্রবীণ ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে তদন্তের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
কমিশনের প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে রয়েছেন একজন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (আইএএস) আধিকারিক। অন্যদিকে, তদন্তের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি দেখভাল করছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব পরিষেবার এক আধিকারিক।
—আইএএনএস



















