News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরার নদী-ছড়ার ধ্বংসের পথ তৈরি হচ্ছে, বালি উত্তোলন নিয়ে সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্রর
Image

ত্রিপুরার নদী-ছড়ার ধ্বংসের পথ তৈরি হচ্ছে, বালি উত্তোলন নিয়ে সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্রর

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: বালি উত্তোলনের অনুমতিপত্র দেওয়ার দায়িত্ব বন দফতরের কাছ থেকে শিল্প দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ এবং এর ফলে ত্রিপুরার পরিবেশের উপর গুরুতর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার আগরতলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বালি উত্তোলনের বিষয়টি সরাসরি নদীর বাঁধ, নাব্যতা, নদীভাঙন, পাহাড়ের স্থায়িত্ব এবং সবুজ আচ্ছাদন সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। তাই বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব বন ও পরিবেশ দফতরের কাছেই থাকা উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

শিল্প দফতর কীভাবে এই ধরনের পরিবেশগত বিষয় পরিচালনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে শাসক দলের একাংশের হাতে কোটি কোটি টাকা জমা হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি আয়োজিত ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা’ অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। প্রায় ১,২০০ জন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ এবং কয়েক লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার বাস্তবতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিভিত্তিক ‘সর্বহারা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংস্থার পেইড-আপ ক্যাপিটাল মাত্র ১ লক্ষ টাকা হলেও ত্রিপুরায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনার সঙ্গে সংস্থাটির নাম যুক্ত রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

প্রস্তাবিত ‘ওপেন স্কুল বোর্ড’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কোর্সের শংসাপত্র দিল্লি থেকে পরিচালিত কোনো সংস্থার মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

বালি উত্তোলন প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও বলেন, বন দফতরের ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের পরিকাঠামো রয়েছে। জেলা বন আধিকারিক, মহকুমা বন আধিকারিক, রেঞ্জ অফিসার, ফরেস্টার, বনরক্ষী এবং ওয়াচারদের মতো কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্ত্বেও অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক নদী ও ছড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর কথায়, বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শিল্প দফতরের হাতে তুলে দিলে ত্রিপুরার নদী ও ছড়াগুলি আরও ধ্বংসের মুখে পড়বে। অবিলম্বে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে ত্রিপুরার পরিবেশের উপর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিবেশ ধ্বংসের দিকে এটি আরও একটি পদক্ষেপ।

Releated Posts

দিল্লিতে বৈঠক, জোট ও ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনায় তিপরা মথা

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দিলেন তিপরা মথার…

ByByTaniya Chakraborty Sep 3, 2026

সোনা গায়েবের অভিযোগে বিশালগড় থানায় বড়সড় পদক্ষেপ, ওসি-সেকেন্ড ওসিসহ চার পুলিশকর্মী ক্লোজড

চড়িলাম, ৩ সেপ্টেম্বর: স্বর্ণালংকার গায়েব হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশালগড় থানায় বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।…

ByByTaniya Chakraborty Sep 3, 2026

ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র ত্রিপুরা…

ByByReshmi Debnath Sep 3, 2026

ডিজিটাল পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়, এমবিবি বিমানবন্দরে চালু অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা ও পর্যটন তথ্যকেন্দ্র

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার পথে আরও একধাপ এগোল ত্রিপুরা। মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে (এমবিবি) চালু…

ByByTaniya Chakraborty Sep 3, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top