পাটনা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের আটটি প্রধান নদী তাদের নিজ নিজ বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। গঙ্গা, সোন, পুনপুন, কোসি, গণ্ডক, বুড়ি গণ্ডক, বাগমতী এবং ঘাঘরা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় একাধিক জেলায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত রাজ্যের ১৩টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত। একাধিক এলাকায় বাড়ছে জলস্তর, ফলে বাসিন্দাদের দুর্ভোগও বাড়ছে। পাটনা প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে, কারণ গঙ্গা, সোন এবং পুনপুন—তিনটি নদীই বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
পাটনায় বন্যা পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গান্ধী ঘাটে গঙ্গার জল বিপদসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার এবং দিঘা ঘাটে ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। শ্রীপালপুরে পুনপুন নদীর জল বিপদসীমার প্রায় ২.০১ মিটার উপরে রয়েছে। ইতিমধ্যেই আশপাশের বাড়িগুলিতে বন্যার জল ঢুকে পড়েছে।
ইন্দ্রপুরী ব্যারেজ থেকে সোন নদীতে ৫.৫৪ লক্ষ কিউসেকেরও বেশি জল ছাড়া হয়েছে। এর ফলে মানের, দানাপুর, বখতিয়ারপুর এবং মোকামার নদী তীরবর্তী এলাকায় দ্রুত জল ছড়িয়ে পড়ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২টি সরকারি নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।
সমস্তিপুরের মহিউদ্দিননগরে গঙ্গার জল বিপদসীমার প্রায় দেড় মিটার উপরে রয়েছে। হাতিদহ ও কাহালগাঁওয়েও গঙ্গা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। মুঙ্গেরে গঙ্গার জলস্তর সতর্কতা সীমাও অতিক্রম করেছে।
ভাগলপুরে গঙ্গার তীব্র ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রঘোপুর-কাজিকোরাইয়া বাঁধ এবং রেলের ট্যাগিং ড্যামের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধ রক্ষায় প্রশাসন দিনরাত কাজ করছে। বালির বস্তা পরিবহণ ও ফেলার কাজে প্রায় ২০০টি ট্রাক্টর এবং তিনটি স্টিমার মোতায়েন করা হয়েছে।
রোহতাসের নওহাট্টায় সোন নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নদীর চর ও ছোট দ্বীপে আটকে পড়েছেন প্রায় ১০০ জন। তাঁরা সেখানে কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন। নদীর জল আরও বাড়তে থাকায় তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে—দরভাঙা, মধুবনী, পশ্চিম চম্পারণ, কাটিহার, মাধেপুরা, পূর্ণিয়া, সাহারসা, খাগাড়িয়া, বৈশালী, বেগুসরাই, ভাগলপুর, সমস্তিপুর এবং মুঙ্গের।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ত্রাণ দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর আধিকারিকদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।
এই সমীক্ষায় ফসল, গবাদি পশু এবং বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়া হবে। যোগ্য পরিবারগুলির কাছে যাতে দ্রুত সরকারি ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রাজ্যের বিভিন্ন নদীর জলস্তর এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলির পরিস্থিতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
—আইএএনএস



















