গুয়াহাটি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অসমে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সাতটি জেলায় বন্যার জেরে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় বন্যাজনিত কারণে এক মহিলার মৃত্যুর পর চলতি বছরে রাজ্যে বন্যা ও বন্যাজনিত ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮-এ। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ)-র সর্বশেষ রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, গোয়ালপাড়া, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, নগাঁও, মরিগাঁও, পশ্চিম কার্বি আংলং এবং কাছাড়—এই সাতটি জেলা বর্তমানে বন্যায় আক্রান্ত। ১৫৫টি গ্রামের প্রায় ২৫,০৮৩ জন মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। বাড়িঘর ছেড়ে আসা মানুষদের জন্য ১৩টি ত্রাণশিবিরও খোলা হয়েছে।
বন্যার জলে কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এএসডিএমএ-র তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬,৪৭৭.৩১ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষিজীবী মানুষের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কয়েকটি এলাকায় নদীর জলস্তর এখনও উদ্বেগজনক। নুমালিগড়ে ধনসিড়ি এবং মাতিজুরিতে কাটাখাল নদী তাদের respective বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
পশ্চিম কার্বি আংলংয়ে সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় অসমে চলতি বছরের বন্যাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০৮-এ পৌঁছেছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে নদীর জলস্তর, নিচু এলাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও করা হচ্ছে।
কয়েকটি নদীতে জলস্তর বাড়তে থাকায় নতুন করে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বর্ষাকালে অসমে প্রতিবছরই বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী প্রশাসন নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।
বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
—আইএএনএস



















