গুয়াহাটি, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অসমের ৭৮ হাজারেরও বেশি গর্ভবতী মহিলা ও মা-কে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার (পিএমএমভিওয়াই) আওতায় ২৩ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
বুধবার এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গর্ভাবস্থা এবং সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়ে মহিলাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। এই আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে উপভোক্তারা নিজেদের এবং সদ্যোজাত সন্তানদের আরও ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, অসমে গর্ভবতী মহিলারা যাতে নিজেদের এবং সদ্যোজাত সন্তানদের যত্ন নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার অধীনে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৭৮ হাজারের বেশি মহিলাকে ২৩ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা একটি কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত মাতৃত্বকালীন কল্যাণ প্রকল্প। গর্ভবতী মহিলা ও স্তন্যদানকারী মায়েদের আংশিক মজুরি ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং তাঁদের স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষত আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির যোগ্য মহিলাদের গর্ভাবস্থা এবং মাতৃত্বের প্রাথমিক পর্যায়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প কার্যকর করা হয়। গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব এবং সদ্যোজাত শিশুর যত্নের কারণে পরিবারের অতিরিক্ত খরচের চাপ কমাতেও এই আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অসম সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। উপযুক্ত মহিলাদের প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত করা এবং সরাসরি তাঁদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অসম সরকার মাতৃ ও শিশু কল্যাণকে প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, পুষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের সুযোগ বাড়াতে রাজ্যে একাধিক কর্মসূচিও চালু রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিজেদের এবং সদ্যোজাত সন্তানদের দেখাশোনার সময় মহিলারা যাতে আর্থিক সমস্যার মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ এই আর্থিক সহায়তা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার মহিলাদের মধ্যে মাতৃত্বকালীন কল্যাণ প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা ও এর আওতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















