নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২ সেপ্টেম্বর: একদিকে ডায়ালাইসিস বেডে শুয়ে রোগী, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীন ইউনিট। জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পরিষেবার মাঝেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ ঘিরে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ, লোডশেডিং হলেই ডায়ালাইসিস ইউনিটে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ না মেলায় রোগীদের বেডে শুয়েই বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষা করতে হয়। ডায়ালাইসিসের মতো স্পর্শকাতর চিকিৎসা পরিষেবায় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর পরিজনরা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে হাসপাতালের জেনারেটর ব্যবস্থা। হাসপাতাল চত্বরে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিংয়ের সময় ডায়ালাইসিস ইউনিটে সময়মতো তার সংযোগ দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ। তাহলে জরুরি পরিষেবার জন্য থাকা জেনারেটর কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়াও জেনারেটর চালাতে ডিজেলের খরচের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে দাবি রোগীর পরিজনদের। তাঁদের অভিযোগ, ডিজেলের খরচের কারণে যদি ডায়ালাইসিস ইউনিটে ব্যাকআপ দিতে কোনও ধরনের অনীহা বা বিলম্ব হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
সম্প্রতি ডায়ালাইসিস সেন্টারে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার পক্ষ থেকে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টকে বিষয়টি জানানোর পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।
এর পরেই প্রশ্ন উঠছে, ব্যবস্থা যদি এখন করা সম্ভব হয়, তাহলে এতদিন কেন তা করা হয়নি? ডায়ালাইসিস চলাকালীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার দায়ভার কে নেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন রোগীর পরিজনরা।
ডায়ালাইসিসের মতো জীবনরক্ষাকারী পরিষেবায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের নির্দিষ্ট কোনও ব্যাকআপ প্রোটোকল রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা অবশ্য তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। তবে রোগীদের চিকিৎসার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোগী ও তাঁদের পরিজনদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ডায়ালাইসিস পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।



















