জয়পুর, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানজুড়ে জরাজীর্ণ স্কুলগুলির সংস্কার ও পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা একে পড়ুয়াদের জয় বলে অভিহিত করেছেন।
জয়পুরের কাছে বাগরু এলাকার একটি সরকারি স্কুলে বুধবার সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার পর তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে। গত ২১ আগস্ট স্কুলটি পরিদর্শনে গিয়ে সিজেপির দলের সদস্যরা হামলার মুখে পড়েছিলেন।
আইএএনএস-কে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “আমরা খুশি যে আজ ওই স্কুলের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। যদিও আমাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছিল, মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল এবং আমাদের গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে এটা আমাদের জয় নয়, বরং সেই পড়ুয়াদের জয়, যারা দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি গোয়ালঘরে পড়াশোনা করছে।”
তিনি আরও বলেন, রাজস্থান হোক বা দেশের অন্য কোনও প্রান্ত—প্রতিটি পড়ুয়ার মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পড়ুয়াদের জন্য সিজেপি ভবিষ্যতেও লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
রাঙ্কা বলেন, “দেশের প্রতিটি স্কুলেরও এভাবেই সংস্কার করা উচিত।”
এদিকে, রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেমচাঁদ বৈরওয়া বুধবার জানান, রাজ্য সরকারই প্রথম সরকারি স্কুলগুলির পরিস্থিতির উন্নতি ও পরিকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই ধরনের অভিযান শুরু করেছে। যে সমস্ত স্কুলের ভবন জরাজীর্ণ বা অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে সংস্কার ও শক্তিশালী করা হবে বলে তিনি জানান।
বৈরওয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট স্কুলটিতে বুলডোজার ব্যবহার করে কাজ শুরু করা হলেও এটি কোনও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়। রাজ্যজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও অনিরাপদ ভবনগুলির স্কুল চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলির পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থও মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।
আইএএনএস-কে তিনি জানান, পরিকাঠামোগত সমস্যায় থাকা স্কুলগুলি চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছিল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থায় পঠনপাঠন চালানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগেও সর্বত্র এই কাজ চলছিল। সমস্যায় থাকা স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থায় পঠনপাঠন চালানো হচ্ছিল। যেখানে এই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে, সেখানে আমরা ইতিমধ্যেই কাজ করছিলাম।”
উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বহু স্কুলের ভবন বহু পুরনো এবং কয়েক বছর আগে নির্মিত। তাই বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















