নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ভেভারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের সামগ্রিক পরিসর এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, গান্ধীজির প্রতি ডি ভেভারের শ্রদ্ধা নিবেদন ভারত ও বেলজিয়ামের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের ভিত্তিতে থাকা অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিফলন।
এক্স-এ পোস্ট করে জয়সওয়াল লেখেন, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী রাজঘাটে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে মহাত্মা গান্ধী এবং তাঁর শান্তি, অহিংসা ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন বার্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গান্ধীজির জীবন ও আদর্শ এখনও বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিন দিনের ভারত সফরে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন বার্ট ডি ভেভার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঁকেন-সহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
প্রায় দুই দশক পর এই প্রথম বেলজিয়ামের কোনও প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে এলেন। ফলে এই সফরকে ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চে বেলজিয়ামের রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের নেতৃত্বে ভারত সফরকারী বেলজিয়ান অর্থনৈতিক মিশনের পর এই সফর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবারই ডি ভেভার কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-র একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখবেন। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-র প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির কর্মসূচি শেষ করে শুক্রবার মুম্বই যাবেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হিরে শিল্প, বন্দর ও লজিস্টিক্স ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-বেলজিয়াম অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে ভারত-ইইউ এবং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
—আইএএনএস



















