কৈলাসহর, ৩ সেপ্টেম্বর: চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের সংবাদ শিরোনামে কৈলাসহরের ঊনকোটি নার্সিং হোম। এবার সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের পর নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হলেন রোগীর পরিজনরা।
কৈলাসহরের ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলকাস মিয়ার বোন আয়াতুন বিবি অসুস্থ হয়ে আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ঊনকোটি নার্সিং হোমে যান। আলকাস মিয়ার অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসার নামে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি বোনের অস্ত্রোপচার না করিয়েই তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে আয়াতুন বিবির বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
এর আগে কয়েকদিন পূর্বে সংবাদ প্রতিনিধিদের কাছে এসে আলকাস মিয়া ঊনকোটি নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি নার্সিং হোমটিকে ‘নার্সিং হোম নয়, কসাইখানা’ বলে অভিযোগ করেন এবং রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করা হয় বলে দাবি করেন।
এই বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঊনকোটি নার্সিং হোমের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিইও রাজীব রায়। তিনি আলকাস মিয়ার সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন। রাজীব রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট আলকাস মিয়া তাঁর বোন আয়াতুন বিবিকে চিকিৎসার জন্য নার্সিং হোমে নিয়ে এসেছিলেন। সঙ্গে একটি ইউএসজি রিপোর্টও ছিল এবং সেই রিপোর্টে অ্যাপেন্ডিক্সের উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, পরবর্তীতে গত ২৬ আগস্ট আয়াতুন বিবিকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান আলকাস মিয়া। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন, ২৭ আগস্ট সরকারি হাসপাতালেই আয়াতুন বিবির অ্যাপেন্ডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক পল্লব দেববর্মা।
অন্যদিকে, নার্সিং হোমের সিইও রাজীব রায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্যের পর ফের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলকাস মিয়া ও তাঁর ভাই সাদ্দাম হোসেন। ২ সেপ্টেম্বর আয়াতুন বিবিকে সরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার আগে জেলা হাসপাতালে স্থানীয় সংবাদ প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন তাঁরা।
আলকাস মিয়ার দাবি, পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী, ঊনকোটি জেলার অভিভাবক মন্ত্রী, জেলাশাসক এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরই নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ ‘মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে’ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলকাস মিয়ার প্রশ্ন, তাঁর বোনের অ্যাপেন্ডিক্সের সমস্যা না থাকলে তিনি কেন অস্ত্রোপচারের জন্য চাপ দেবেন? তাঁর দাবি, তিনি বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন এবং সেই কারণেই বোনকে শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন।
অন্যদিকে, আলকাস মিয়ার ভাই সাদ্দাম হোসেনও ঊনকোটি নার্সিং হোমের সিইওর সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রামের মানুষকে অপমান করা হয়েছে। গ্রামের মানুষ কিছু বোঝেন না বা সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে জানেন না, এমন ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাদ্দাম হোসেনের প্রশ্ন, গ্রামের মানুষ যদি নিজেদের সমস্যার কথা প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের কাছে জানাতেই না পারেন, তাহলে গ্রামে কি ‘ভূত’ বসবাস করে? পুরো ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রোগীর পরিবারের অভিযোগ এবং ঊনকোটি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।



















