নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শনিবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে দেশের ৪৮ জন শিক্ষককে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে সম্মানিত করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অসাধারণ কাজ ও সাফল্য তুলে ধরে বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়। স্কুলশিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান এবং পড়ুয়াদের জীবনে তাঁদের প্রভাবও তুলে ধরা হয় ওই তথ্যচিত্রে।
শিক্ষক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। নিজের শিক্ষকদের স্মরণ করে তিনি জানান, তাঁদের ভালোবাসা ও স্নেহের কারণেই তিনি জীবনে সফল হতে পেরেছেন এবং আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন।
একই সঙ্গে নিজের পড়ুয়াদের কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। ওড়িশার রায়রাংপুরের শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন সেন্টারে শিক্ষকতা করার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর পড়ুয়াদের কাছ থেকেও তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। পড়ুয়াদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও স্নেহকে জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নারীশিক্ষার প্রসারে সমাজসংস্কারক সাবিত্রীবাই ফুলের অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রতি বছর শিক্ষক দিবসে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের উদ্যোগে জাতীয় স্তরের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলশিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা দেশের সেরা শিক্ষকদের সম্মান জানানোই এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য।
একটি কঠোর, স্বচ্ছ ও অনলাইন নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেছে নেওয়া হয়। তাঁদের পেশার প্রতি নিষ্ঠা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, কঠোর পরিশ্রম এবং স্কুলশিক্ষার মানোন্নয়নে অবদানের মতো বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়।
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য যোগ্য শিক্ষকদের ১৫ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রকের পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে স্ব-মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে তিন ধাপের নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর এ বছর ৪৮ জন স্কুল শিক্ষককে পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত ৪৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ২৭টি রাজ্য, সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ছয়টি সংস্থার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ এবং ২২ জন মহিলা শিক্ষক রয়েছেন।
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের লক্ষ্য হল এমন শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেওয়া, যাঁদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা পড়ুয়াদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষার ফলাফল উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, নিষ্ঠা ও উৎকর্ষকে উৎসাহিত করাও এই পুরস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞান ভবনের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকরা একত্রিত হন। তাঁদের কাজ, সাফল্য এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে পড়ুয়াদের জীবনে তৈরি করা ইতিবাচক পরিবর্তন স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
—আইএএনএস
























