পটনা, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় মাটির বাড়ি ধসে ১২ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঔরঙ্গাবাদের ওবরা থানা এলাকার সিনহুড়ি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাড়ি ধসে পড়ার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকার ও সাহায্যের আর্তনাদ শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। তাঁরা দেখতে পান, ধ্বংসস্তূপের নিচে পরিবারের পাঁচ সদস্য আটকে রয়েছেন।
এরপর গ্রামবাসীরা নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচজনকেই বের করে আনা সম্ভব হয়। তবে ১২ বছরের বাবলি কুমারীকে বাঁচানো যায়নি।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবলির মা পুনম দেবী এবং তাঁর তিন সন্তান নন্দনী কুমারী, রিমি কুমারী ও কুন্দন কুমার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ঔরঙ্গাবাদ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা বাবলি কুমারীকে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিনের মতোই রাতে পুনম দেবী তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে পুরনো মাটির বাড়িটিতে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাড়িটির দেওয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ে গোটা ঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিনহুড়ি গ্রামে। আহত মা ও তিন সন্তান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রাক্তন বিধায়ক ঋষি যাদব ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য একটি স্থায়ী বাড়ি এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ওবরা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নীতীশ কুমার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত পরিবারের সদস্যদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি জানান, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শেষকৃত্যের জন্য। ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জেলা শাসকের দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাটির বাড়িটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে থাকতে পারে এবং তার ফলেই বাড়িটি ধসে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।



















