আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার এডিসি এলাকায় আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজেপি, তিপরা মথা এবং আইপিএফটি যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। তিন দলই রাজ্যে এনডিএ-র শরিক। পাশাপাশি ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাকি বিষয়গুলি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সময়বদ্ধভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ দিল্লি থেকে ফিরে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বৈঠকে তিপরা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা এবং বিজেপির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী ড. সম্বিত পাত্রও উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে। বৈঠকে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ড. মানিক সাহা বলেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু নির্বাচন চলছে, তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আগামী মাসেই সমস্ত বকেয়া বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করা হবে এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দলগুলির পক্ষ থেকে টিম গঠন করা হয়েছে।
আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপি, তিপরা মথা এবং আইপিএফটি একসঙ্গে নির্বাচনে লড়বে। তাঁর কথায়, মথা, আইপিএফটি এবং বিজেপি তিনটিই এনডিএ-র শরিক। আমরা টিডিসি নির্বাচন যৌথভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই জোট অব্যাহত থাকবে।
তবে আসন সমঝোতা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে শীঘ্রই চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। আইপিএফটি নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রদ্যোত কিশোরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সমস্ত অংশীদারের মধ্যে বর্তমানে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ড. সাহা বলেন, যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, সমস্ত সম্প্রদায়ের স্বার্থের কথা মাথায় রাখা হবে, যাতে কোনও সম্প্রদায়ের মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত না হন। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’-এর চেতনায় আমরা এগিয়ে যাব।
জোট শরিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং “সবাই সন্তুষ্ট ও খুশি।
অতীতে জোটের সামনে যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলি এসেছিল, সেখান থেকে শরিকরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে পারস্পরিক দূরত্ব ও ঘাটতিগুলি দূর করে একসঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়সীমা মেনে এগোনোর কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন দুর্বল নয়। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে বসে সমস্ত সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান করব। সঠিকভাবে এবং সবার স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



















