আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: ২০২৪ সালের পুনর্বাসন চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের সংগঠনগুলির ডাকা ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধ অবশেষে শনিবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী গোষ্ঠীগুলির প্রতিনিধিদের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে দু’দিন ধরে দুর্ভোগে থাকা হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার জানান, সমস্ত আত্মসমর্পণকারী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে। তাঁদের বেশ কিছু দাবিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যমান নিয়মের আওতায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ড. বিশাল কুমার বলেন, পুনর্বাসন কমিটি তাঁদের কয়েকটি দাবি নিয়ে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। আমরা সমস্ত আত্মসমর্পণকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং তাঁদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়মের মধ্যে থেকে গ্রহণ করেছি। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেগুলি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে একাধিক বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শনিবার অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজ্য ও আত্মসমর্পণকারী সুবিধাভোগীদের স্বার্থে আন্দোলন প্রত্যাহার করায় প্রাসেনজিৎ-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান জেলাশাসক।
এদিকে অবরোধের জেরে গত দু’দিন ধরে ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বরামুড়ায় জাতীয় সড়কে অবরোধের পাশাপাশি রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ে। জাতীয় সড়কে আটকে পড়ে বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি-সহ বহু যানবাহন। দূরপাল্লার যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয় জরুরি পরিষেবা নিয়ে। অভিযোগ, অবরোধের কারণে রোগী নিয়ে যাওয়া দুটি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। এর মধ্যে কয়েকজন রোগী জিবি পান্ত হাসপাতালে ডায়ালিসিসের জন্য যাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। অ্যাম্বুলেন্স এগোতে না পারায় তাঁদের একপর্যায়ে হেঁটে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের কারণে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কতটা ব্যাহত হতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
শনিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জাতীয় সড়কে বসানো ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা যায়। আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের ধরন আরও কঠোর হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দাবি, ২০২৪ সালের পুনর্বাসন চুক্তিতে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও সেগুলির বেশ কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা এবং উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর এখন সরকারের দেওয়া সময়বদ্ধ প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের আশা, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে সাধারণ যাত্রী, রোগী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের দুর্ভোগে পড়তে হবে না।
























