ধর্মনগর, ৫ সেপ্টেম্বর: একদিকে বিভিন্ন জায়গায় অবরোধের জেরে সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত, অন্যদিকে রেললাইনে ধসের কারণে ব্যাহত রেল পরিষেবা। দুই দিকের সমস্যায় কার্যত চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে ধর্মনগর রেল স্টেশনে আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী। অন্যান্য ট্রেনের পাশাপাশি শিয়ালদহ–সাব্রুম কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পরিষেবাও ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রেললাইনে ধসের জেরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে শিয়ালদহ থেকে আসা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধর্মনগর পর্যন্ত এসে কার্যত থেমে যায়। ট্রেনে থাকা আগরতলা, তেলিয়ামুড়া, উদয়পুর, সাব্রুমসহ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা ধর্মনগরে নেমে পড়লেও এরপর কীভাবে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছবেন, তা নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে, ধর্মনগর থেকে ট্রেনটি শনিবার সকাল প্রায় ১১টার সময় ফের শিয়ালদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে ধর্মনগরে এসে ট্রেন ধরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন।
বিশেষ করে আগরতলা, তেলিয়ামুড়া, উদয়পুর, সাব্রুমসহ দক্ষিণ ও মধ্য ত্রিপুরার যাত্রীরা ধর্মনগরে এসে আটকে পড়ছেন। একইভাবে উত্তর ত্রিপুরার যেসব যাত্রী আগরতলা কিংবা দক্ষিণ ত্রিপুরার দিকে যাওয়ার জন্য রেল পরিষেবার ওপর নির্ভর করেন, তাঁরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
এদিকে, ধর্মনগর স্টেশন চত্বরে আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বহু যাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকের সঙ্গে রয়েছে শিশু ও বয়স্ক পরিবারের সদস্যরা। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
রেললাইনে ধসের কারণে উত্তরবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলের একাধিক ট্রেনের পরিষেবা ইতিমধ্যেই বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের কাজও চলছে। তবে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি ধর্মনগর স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীদের দ্রুত সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সড়কপথে অবরোধ এবং রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন বহু মানুষ। ধর্মনগরে আটকে থাকা যাত্রীরা কবে এবং কীভাবে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছবেন, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।



















