লখনউ, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) আন্তর্জাতিক কচ্ছপ পাচারচক্রের এক সদস্যকে কানপুর থেকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে ১৭১টি সংরক্ষিত ইন্ডিয়ান রুফড টার্টল উদ্ধার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, ১৮ জুলাই কানপুরের হারবংশ মহল থানার অন্তর্গত রেলক্রসিংয়ের কাছে অভিযান চালিয়ে ফতেহগড় জেলার কমলগঞ্জ থানার ভাটপুরা গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ আলিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, আধার কার্ড এবং ১৭১টি সংরক্ষিত কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে।
আধিকারিকদের বক্তব্য, ভারতের বন্যপ্রাণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো)-র উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ এসটিএফ গত কয়েক বছর ধরে কচ্ছপ পাচারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ভারতে পাওয়া ২৯ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে ১৫টি উত্তরপ্রদেশে দেখা যায় এবং এর মধ্যে ১১টি প্রজাতি অবৈধ পাচারের শিকার।
তদন্তকারীদের মতে, জীবিত কচ্ছপ মাংস বা পোষ্য হিসেবে বিক্রি করা হয়। এছাড়া কচ্ছপের শরীরের বিশেষ ঝিল্লি (ক্যালিপি) শুকিয়ে তথাকথিত যৌনশক্তি বৃদ্ধির ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। কচ্ছপ মূলত ‘সফট-শেল’ এবং ‘হার্ড-শেল’—এই দুই শ্রেণির। যমুনা, চম্বল, গঙ্গা, গোমতী, ঘাঘরা, গণ্ডক-সহ বিভিন্ন নদী, তাদের উপনদী এবং পুকুরে এই কচ্ছপের বসবাস।
এসটিএফ জানিয়েছে, কিছুদিন ধরেই সংরক্ষিত কচ্ছপ পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য মিলছিল। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন ইউনিটকে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসটিএফ) অবনীশ্বর চন্দ্র শ্রীবাস্তবের তত্ত্বাবধানে তদন্তে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলার পাচারকারীরা বড় আকারে বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ পাচারের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ ও মায়ানমার হয়ে চীন, হংকং এবং মালয়েশিয়ায় এই কচ্ছপ পাচার করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপর উপ-পরিদর্শক ফয়জুদ্দিন সিদ্দিকির নেতৃত্বে এসটিএফের একটি দল কানপুরে টহল দেওয়ার সময় খবর পায়, বিপুল পরিমাণ কচ্ছপ নিয়ে কয়েকজন পাচারকারী শহরে আসছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ এবং কানপুর বন বিভাগের যৌথ দল হারবংশ মহল রেলক্রসিংয়ের কাছে অভিযান চালিয়ে জাহিদ আলিকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানায়, ফতেহগড় সংলগ্ন বিভিন্ন নদী ও পুকুর থেকে স্থানীয় পাচারকারীদের মাধ্যমে কচ্ছপ সংগ্রহ করে সে। পরে কানপুরের অন্যান্য পাচারকারীদের সহযোগিতায় সেগুলি বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হতো।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর ৯, ৩৯, ৪০, ৪৮এ, ৫১ এবং ৫৭ ধারায় কানপুর ফরেস্ট রেঞ্জে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বন বিভাগ সম্পন্ন করবে।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।



















