আগরতলা, ১৯ জুলাই: উনকোটি জেলার কৈলাশহরের ইরানি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দশম শ্রেণির ছাত্রী জুবেদা বেগম-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, গত ১০ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন জুবেদা বেগম। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন, ১১ জুলাই, হিরাছড়া চা-বাগান সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জুবেদার বাবা বরকত মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, মরদেহ বাড়িতে আনার পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরিবারের দাবি, জুবেদার একটি হাত ভাঙা ছিল। এছাড়া গলা, হাঁটু এবং শরীরের আরও বিভিন্ন অংশে ক্ষত ও আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।
পরিবারের এই অভিযোগকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে সেই মহিলার বক্তব্য, যিনি জুবেদার মরদেহের শেষ স্নান করিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, স্নানের সময় তিনি মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি হাত ভাঙা ছিল, পায়ের আঙুলে কাটা দাগ এবং শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তবে পরিবারের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইসঙ্গে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টও এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে জুবেদা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
এদিকে পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পর গোটা কৈলাশহর মহকুমায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এবং পরিবারের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক। তদন্তে যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে সকলের নজর রয়েছে পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে। তদন্তের অগ্রগতি ও ফরেনসিক রিপোর্টই জুবেদা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
























