আগরতলা, ১৯ জুলাই: দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সন্ধান মিলেছে গুয়াহাটির একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া খোয়াইয়ের ব্যবসায়ী মিলন গোপের। আসামের লামডিং এলাকায় সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি খোয়াই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই লামডিংয়ে মিলন গোপের সন্ধান পান পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে খোয়াইয়ে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও তিনি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি ফিরে পাননি। কীভাবে তিনি গুয়াহাটির হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়লেন কিংবা কীভাবে লামডিং পর্যন্ত পৌঁছালেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কিছুই মনে করতে পারছেন না।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন গোপ সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার পর তাঁকে অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই সময় তিনি কখনও শুধু জল, কখনও গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে ছিলেন। এমনকি অপরিচিত ভেবে কিছু মানুষ তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালিয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে শেষ পর্যন্ত কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তি ও পুলিশের উদ্যোগেই তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, খোয়াই থানার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী মিলন গোপ সম্প্রতি নিজের ভাগ্নির চিকিৎসার জন্য আসামের গুয়াহাটিতে গিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই একসময় তিনি হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর স্ত্রী জানান, মাথায় আঘাতের কারণে স্বামীর মানসিক ভারসাম্য ও স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল বলে তাঁদের আশঙ্কা ছিল। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না, ফলে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি খোয়াই থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে তৎপরতা শুরু হয়। এক পর্যায়ে গুয়াহাটিতে তাঁর সন্ধান মিললেও তিনি নিজের পরিচয় বা বাড়ির ঠিকানা জানাতে পারেননি। পরে কয়েকজন সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে ত্রিপুরাগামী একটি ট্রেনে তুলে দেন। তবে ট্রেনটি লামডিং স্টেশনে পৌঁছালে তিনি নেমে পড়েন এবং পুনরায় নিখোঁজ হয়ে যান।
অবশেষে পুলিশের সহযোগিতা এবং পরিবারের নিরলস প্রচেষ্টায় লামডিং থেকে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে খোয়াই জেলা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের আশা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে, গুরুতর মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও বিভ্রান্ত অবস্থায় থাকা রোগী কীভাবে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে রেলপথ ও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ালেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
























