কোহিমা, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): নাগাল্যান্ডের মন জেলার ডিফেন্স কলোনিতে রবিবার ভয়াবহ ভূমিধসে শিশু-সহ অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে একাধিক বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে নেমেছে একাধিক সংস্থা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, এখনও পর্যন্ত চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও চারজনের দেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রবল বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং অস্থির ভূমির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ভূমিধসে ডিফেন্স কলোনির প্রায় ১৫টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বহু বসতবাড়ি ও সম্পত্তির। উদ্ধার অভিযানে অসম রাইফেলস, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), নাগাল্যান্ড পুলিশ, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং আহতদের প্রত্যেককে ৭৪ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে খাদ্য, অস্থায়ী আশ্রয়, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, শুধু মন জেলা নয়, মোকোকচুং জেলার তুলি মহকুমা-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নাগাল্যান্ড স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনএসডিএমএ), জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, এসডিআরএফ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি দিনরাত উদ্ধার, ত্রাণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে আনা এবং জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার সকল দফতরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভূমিধসপ্রবণ এলাকা, পাহাড়ের ঢাল ও নদীর তীর এড়িয়ে চলার, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ শোকপ্রকাশ করে জানান, রাজ্য সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রত্যেক ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত দিনরাত উদ্ধার অভিযান চলবে। তবে টানা ভারী বৃষ্টি ও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে বারবার ব্যাহত করছে।
























