আগরতলা, ১৯ জুলাই: রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন ইস্যুতে মোট ২৫ দফা দাবিকে সামনে রেখে রবিবার আগরতলায় মহামিছিল সংগঠিত করল ত্রিপুরা কর্মচারী সমন্বয় কমিটি (এইচ বি রোড)। প্যারাডাইস চৌমুহনী থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে।
মিছিলে বিপুল সংখ্যক সরকারি শিক্ষক, কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা অংশগ্রহণ করেন। দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মিছিল শেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা মহুয়া রায় জানান, রাজ্যভিত্তিক ১৪টি এবং জাতীয় স্তরের ১১টি—মোট ২৫ দফা দাবিকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যভিত্তিক দাবির মধ্যে রয়েছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং নিয়োগ ব্যবস্থা বন্ধ, অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ, বছরে দু’বার মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান, বকেয়া ডিএ ও ডিআর অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া, অষ্টম রাজ্য বেতন কমিশন গঠন, ডাই-ইন-হারনেস প্রকল্পের পুরনো নিয়ম পুনর্বহাল, এমএসিপি-সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন, ফিক্সড-পে কর্মীদের নিয়মিত বেতনক্রম চালু, পদোন্নতির জটিলতা দূরীকরণ, টিটিএএডিসির কর্মীদের সমান আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, নারী নিরাপত্তা জোরদার, ১০,৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সরকারি বিদ্যালয়ে বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ এবং গ্রান্ট-ইন-এইড রুলস সংক্রান্ত সংশোধনী বাতিল।
অন্যদিকে, জাতীয় দাবির মধ্যে রয়েছে চারটি নতুন শ্রম আইন (লেবার কোড) বাতিল, পিএফআরডিএ আইন বাতিল করে এনপিএস ও ইউপিএস প্রত্যাহার, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিতকরণ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ বন্ধ, অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুবিধা কার্যকর করা, সমস্ত বকেয়া ডিএ প্রদান, সরকারি সহায়তায় ক্যাশলেস স্বাস্থ্যবিমা চালু, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ বাতিল, সংবিধানের ৩১০ ও ৩১১(২)-এর সংশ্লিষ্ট বিধান পুনর্বিবেচনা, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দাবি।
ত্রিপুরা কর্মচারী সমন্বয় কমিটির নেতৃত্ব জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে সংগঠন।
























