অভিজিৎ রায় চৌধুরী
নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই : দেশের জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সম্মান আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামীকাল রাজ্যসভায় ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশ করবেন। এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১-এর আওতায় এনে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা সৃষ্টি করা বা গানটি পরিবেশনের সময় কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর মতোই সমান আইনি মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকবে।
বর্তমানে, প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১-এর ৩ নম্বর ধারায় শুধুমাত্র জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর গানে বাধা সৃষ্টি করা বা তার পরিবেশনে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই ধারায় ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষণা করেছিলেন, ‘বন্দে মাতরম’-কে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হবে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’-এর গানে অবমাননা বা বিঘ্ন রোধে নির্দিষ্ট কোনও আইনি বিধান নেই। তাই এই সংশোধনীর মাধ্যমে সেই আইনি শূন্যতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



















