জম্মু, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
পুঞ্চ জেলার সুরনকোট তহসিলের বুফলিয়াজ এলাকার লোয়ার মুররাহ অঞ্চলে হড়পা বানে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সুরনকোটের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মহম্মদ ইউসুফ চৌধুরী জানান, এখনও পর্যন্ত আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন নূর সাফিয়া (৫৯), সাজাদ আহমেদ (১৬), হকনওয়াজ আহমেদ (১০), শাহনওয়াজ আহমেদ (১০), খালদা কৌসর (২৫), সোফিয়ান (২), বানো বি (৬০) এবং মহম্মদ আক্রম (৭)।
বন্যায় পুঞ্চ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সিভিল প্রশাসন, এসডিআরএফ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে মুঘল রোড এবং রাজৌরি-পুঞ্চ জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসন, স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে দ্রুত সব ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়া দফতরের ভারী বৃষ্টির সতর্কতার প্রেক্ষিতে এবং জম্মু বিভাগের পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ওমর আবদুল্লা জানান, তিনি দিল্লি থেকে জম্মু ফিরে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিধায়কদের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা করাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে যাঁরা প্রাণ, সম্পত্তি বা অন্য কোনও ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাঁদের পাশে সরকার সবরকমভাবে দাঁড়াবে।”
এদিকে, আবহাওয়া দফতর ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজৌরি জেলায় নদী-নালা উপচে পড়ে।
দরহালি, খান্ডলি, সুকতোহ এবং জামোলা-সহ রাজৌরির প্রায় সব নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার উপরে পৌঁছে যাওয়ায় বহু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, রাজৌরি শহরের বেলা কলোনির কাছে দরহালি নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন বাসস্ট্যান্ডে জল ঢুকে পড়ে। এতে বহু গাড়ি ভেসে যায় বা জলের তলায় চলে যায়।
আবদুল্লা ব্রিজ সংলগ্ন বস্তি এলাকায়ও বন্যার জল ঢুকে পড়ায় ৫০টিরও বেশি পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তারিক ব্রিজের আশপাশের এলাকাতেও জল ঢুকে পড়ায় পুলিশ একাধিক বিপদসংকেত পেয়ে নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।



















