নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী জোটের সাময়িক ওয়াকআউট ঘিরে রবিবার নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে “অভূতপূর্ব” এবং “অনুচিত” বলে কটাক্ষ করেছে। যদিও কিছুক্ষণ পরই বিরোধী সাংসদরা বৈঠকে ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেন।
এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি দ্বাদশ লোকসভা থেকে সাংসদ এবং জীবনে প্রায় ১০০টি সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু এভাবে বিরোধীদের বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে কখনও দেখেননি। তিনি জানান, এনসিপিআই-এর সঙ্গে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন, যাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মহিলা। পাশাপাশি দলটিতে তিনজন মুসলিম সাংসদও রয়েছেন এবং এনডিএ-তে তারা দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হতে চলেছে বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, দল ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাসী।
এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউটের মতো ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। গণতন্ত্রে মত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়া শোভনীয় নয়।
এদিন এনসিপিআই পশ্চিমবঙ্গের ২০ জন লোকসভা সাংসদের দলভুক্ত হওয়ার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিসও জারি করেছে। ওই তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, মালা রায়, সায়নী ঘোষ, যুসুফ পাঠান, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ২০ জন সাংসদ। নোটিসে বলা হয়েছে, তাঁদের যোগদানে জনসেবা ও জাতি গঠনের লক্ষ্যে দলের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এনসিপিআই প্রতিনিধিদের সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, লোকসভার স্পিকারের কাছে ২০ জন সাংসদ নতুন দলে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন এবং বিষয়টি বিবেচনাধীন। তাই তাঁদের বৈঠক থেকে বাদ দেওয়া যায় না।
রিজিজু বলেন, সরকার সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে, এনসিপিআই-কে আলাদা করে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “লোকসভা সবার। ২০ জন নির্বাচিত সাংসদকে কীভাবে বঞ্চিত করা যায়?”
তিনি জানান, সর্বদলীয় বৈঠকে ৪০টি রাজনৈতিক দলের ফ্লোর লিডার অংশ নেন এবং আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে আলোচ্য বিষয় নিয়ে মতামত দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও জাতীয় স্বার্থে সব দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
রিজিজু আরও বলেন, সংসদে হইচই বা অচলাবস্থার বদলে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিলে সব দলেরই মতামত জানানোর সুযোগ থাকবে। সংসদ সচল থাকাই গণতন্ত্রের স্বার্থে জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বর্ষাকালীন অধিবেশনে আনার জন্য প্রস্তাবিত আটটি বিলের তালিকা ইতিমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভার সচিবালয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। অতিরিক্ত কোনও বিল আনা হলে তা আগে বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটিতে আলোচনা করে বিরোধীদের জানানো হবে।
























