মুম্বই/হায়দরাবাদ, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত কক্ষপথগামী উৎক্ষেপণযান বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরিচালক এস এস রাজামৌলি, অভিনেতা মহেশ বাবু এবং মেগাস্টার চিরঞ্জীবী। তাঁদের মতে, এই সাফল্য তরুণ ভারতের মেধা, উদ্ভাবন এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ রাজামৌলি লেখেন, “ভারত থেকে কক্ষপথে! স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বিক্রম-১-এর মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত কক্ষপথগামী রকেটটি হায়দরাবাদভিত্তিক এমন একটি দল তৈরি করেছে, যাদের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। এটাই তরুণ ভারতের সক্ষমতার প্রমাণ। গোটা দলের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। অভিনন্দন। জয় হিন্দ।”
অভিনেতা মহেশ বাবুও স্কাইরুটের তরুণ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, “ভারত এখন তারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণও করছে। হায়দরাবাদের স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তরুণ দলকে নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। প্রথম মিশনেই বিক্রম-১-এর কক্ষপথে পৌঁছনো আমাদের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের মেধা ও অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল প্রমাণ। এই সাফল্যের পিছনে যাঁরা হৃদয়-উজাড় করে পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অভিনন্দন।”
মেগাস্টার চিরঞ্জীবীও স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, ইসরো এবং ইন-স্পেসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আজ ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক দিন। ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত কক্ষপথগামী রকেট বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণের জন্য স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, ইসরো এবং ইন-স্পেসকে আন্তরিক অভিনন্দন।”
তিনি আরও বলেন, “এই অসাধারণ কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে হায়দরাবাদে স্কাইরুটের মেধাবী তরুণ দল নকশা ও নির্মাণ করেছে, যা আমাকে অত্যন্ত গর্বিত করেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের অসংখ্য তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে এবং উন্নত ভারতের যাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার ‘মিশন আগমন’-এর আওতায় অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় বিক্রম-১। হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ স্টার্ট-আপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর তৈরি এই রকেটটি ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত কক্ষপথগামী উৎক্ষেপণযান।
ড. বিক্রম সারাভাইয়ের নামে নামাঙ্কিত চার-ধাপের এই উৎক্ষেপণযানটি নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (এলইও) ৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজনের ছোট উপগ্রহ বহনে সক্ষম। প্রথম মিশনে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে পেলোড স্থাপনের লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করেছে বিক্রম-১।
এই সাফল্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের পর ভারত বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে একটি বেসরকারি সংস্থা নিজস্ব প্রযুক্তিতে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম হয়েছে।



















