ভোপাল, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রম, অগ্নি নিরাপত্তা, ব্যবসা সহজীকরণ, শিক্ষা এবং নাগরিক আইন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোট ৯টি বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া রাজ্য বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলগুলি পেশ করা হবে।
ভোপালের কাছে জগদীশপুরে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলিকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনগত সংস্কারের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিল হল ‘মধ্যপ্রদেশ ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল, ২০২৬’। এই বিলে ধর্ম নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, দত্তক গ্রহণ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ এবং নারী-পুরুষের সমান সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে আদিবাসী সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-তেও অনুমোদন দিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আগে বাধ্যতামূলক ২৫ একর জমির শর্ত তুলে দিয়ে তার পরিবর্তে ‘পর্যাপ্ত জমি’র শর্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে শহর বা শহরতলিতে বহুতল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সহজ হবে এবং নতুন শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলে সরকারের আশা।
‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস আইন, ২০২৬’-এর আওতায় মধ্যপ্রদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের অধীনে একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একক-জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প স্থাপনের অনুমোদন আরও সহজ করা হবে। স্বঘোষণার ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের ‘লেটার অব এস্টাবলিশমেন্ট’ দেওয়া হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে ‘মধ্যপ্রদেশ বেসরকারি কোচিং ইনস্টিটিউট (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিল, ২০২৬’-এ একাদশ শ্রেণির নিচের পড়ুয়াদের কোচিংয়ে ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব কোচিং প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। কোনও শিক্ষার্থী কোর্স ছেড়ে দিলে ১০ দিনের মধ্যে ফি ফেরত দেওয়ারও বিধান রাখা হয়েছে।
‘মধ্যপ্রদেশ শ্রম কোড, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ছয়টি পুরনো শ্রম আইনকে একত্রিত করে নতুন শ্রমবিধি আনা হচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা থিয়েটার ও রেস্তোরাঁ চালানোর অনুমতি এবং নতুন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পরিদর্শক যাচাইয়ের শর্ত তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়াও মন্ত্রিসভা ‘মধ্যপ্রদেশ হাইওয়েজ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’, ‘মধ্যপ্রদেশ রিপিল বিল, ২০২৬’, ‘ফায়ার অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘ধন্বন্তরি হেলথ ইউনিভার্সিটি বিল’ এবং পঞ্চায়েত রাজ ও সেস আইনের সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধনীর ফলে ‘স্বামিত্ব যোজনা’-র আওতায় গ্রামীণ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণে বিভিন্ন ধরনের কর ও সেস থেকে ছাড় মিলবে।
রাজ্য সরকারের মতে, এই বিলগুলির মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা, শিল্প, শ্রম এবং জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হবে।



















