কলকাতা, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনভূমি ধ্বংস করে গড়ে ওঠা অবৈধ নোনা জলের মাছের ভেড়িগুলির বিরুদ্ধে অবিলম্বে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর।
রাজ্যের নতুন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও ব্যক্তিগতভাবে দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, অবৈধভাবে তৈরি হওয়া এই ভেড়িগুলি চিহ্নিত করে পুলিশের সহায়তায় বন্ধ করতে হবে এবং দখল হওয়া এলাকায় পুনরায় ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাতে হবে।
বন দফতরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১,৬০০ একর এলাকাজুড়ে এই ধরনের অবৈধ নোনা জলের মাছের ভেড়ি রয়েছে। এর অধিকাংশই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায় অবস্থিত।
মনোজ ওরাঁও জানান, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ভেড়িগুলি চিহ্নিত করা, বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুনরায় ম্যানগ্রোভ রোপণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রায় ১,৬০০ একর এলাকায় এই ধরনের অবৈধ মাছের ভেড়ি রয়েছে। বন দফতর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই এলাকাগুলিকে পুনরায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে পরিণত করার কাজ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে আর কোনও ভেড়ি বা অন্য নির্মাণ গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য বন দফতর ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কড়া নজরদারি চালাবে।”
পরিবেশবিদরা রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড় ও সুপার সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। তাই এই বনভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুন্দরবন এলাকায় পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবন্তলা থানার অন্তর্গত মৌখালি এলাকায় মাতলা নদীর তীরে অবৈধভাবে নির্মিত ‘অরণ্যের কূলে’ নামে একটি ক্যাফে সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। ক্যাফেটির মালিক ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা।



















