নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, তখনই ভারতের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিলেন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শাজি প্রভাকরণ। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ প্রশাসন, তৃণমূল স্তরে উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ভারতও বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শাজি প্রভাকরণ বলেন, “ভারতের বিশ্বকাপে খেলা কোনও রকেট সায়েন্স নয়। আমাদের কাছে জনশক্তি, প্রতিভা এবং ফুটবলের প্রতি আবেগ—সবই রয়েছে। এখন প্রয়োজন সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করা।”
বিশ্বকাপ ফাইনাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। তাঁর দাবি, এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, ফাইনাল ম্যাচটি প্রায় ২০০ কোটি মানুষ দেখবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লিওনেল মেসিকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে শাজি বলেন, “মেসির কারণে আর্জেন্টিনা আরও বড় হয়েছে। তিনি শুধু গোল করেন না, পুরো দলকে এক সুতোয় বেঁধে রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব এবং প্রভাবই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলির বেশিরভাগই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামাজিক মাধ্যমের বাড়াবাড়ির ফল। “শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে হলে মাঠে গোল করতেই হবে। সামাজিক মাধ্যমে যা বলা হয়, তার অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না,” মন্তব্য তাঁর।
ভারত কেন এখনও বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি—এই প্রশ্নের জবাবে শাজি প্রভাকরণ বলেন, সমস্যার মূল কারণ প্রতিভার অভাব নয়, বরং সমন্বিত প্রচেষ্টার ঘাটতি। তাঁর মতে, সরকার ফুটবলের উন্নয়নে ইতিবাচক হলেও এখন ফুটবল প্রশাসকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত একটি সুসংহত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “ছোট ছোট দেশও বিশ্বকাপে খেলছে, কারণ তাদের লক্ষ্য একটাই—বিশ্বকাপে পৌঁছানো। তারা নিজেদের সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে। ভারতকেও প্রকল্পভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।”
ভারতের ফুটবল কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পেশাদার লিগের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হলেও তৃণমূল স্তরকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তাঁর মতে, আরও বেশি প্রতিযোগিতা, উন্নত যুব একাডেমি, বিদেশে খেলার সুযোগ এবং শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো তৈরি করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য প্রসঙ্গে শাজি প্রভাকরণ বলেন, “আমার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন ভারতের বিশ্বকাপে খেলা দেখা। আগামী ১০-১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা গেলে এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে পারে। এজন্য স্বচ্ছতা, সরকারি সহযোগিতা, কর্পোরেট বিনিয়োগ এবং দক্ষ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি ভারতের অন্যতম বড় ‘সফট পাওয়ার’ হয়ে উঠতে পারে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে পারলে ফুটবল দেশের সংস্কৃতি, ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”
























